unstable

হ্যাঁ আমি খুব unstable; কোনো জিনিস, কোনো মানুষ, কোনো জায়গা, কিছুই আমার মত মানুষদের বেশিদিন বেঁধে রাখতে পারেনা- পারেনি আর পারবে বলেও মনে হয় না। আসলে আমাদের পারিপার্শ্বিক আচ্ছাদনের থেকে আমার প্রত্যাশা বড়ই কিঞ্চিৎ, বা বাদের খাতায় ফেললেই চলে; তাই উল্টোদিকের মানুষ বা পরিস্থিতির থেকেও আমাদের এটাই দাবি তারাও যেনো কোনো প্রত্যাশার বেড়াজালে আমাদের বাঁধতে না চায়। আর ঠিক যেই মুহূর্তে তাদের চাহিদার দেওয়াল ঘিরে ফেলে আমাদের- শ্বাস রোধ হয়ে আসে আমাদের, আমরা কেবল পালিয়ে যাই; ছুটে চলি নতুন থেকে নতুনতর এর সন্ধানে।
এতে তাদের দোষ থাকেনা খুব একটা, আর আমাদের নজরে আমরাও ঠিক; এতে তাদের যৌলস, মাহাত্ম্য, নিজস্বতা কিছুই লাঘব হয় না, শুধু সুতোর টান টা আলগা হয়ে যায়।

হ্যাঁ আমি খুব unstable; আর আমার মত unstable মানুষ গুলোই যেখানে ঠিক যতটুকু সময়ের জন্যই থাকুক- যার বা যাদের সাথেই থাকুক তাদের জন্য নিজের সর্বস্ব উজাড় করে দিতে জানে, ভালো থাকতে জানে- ভালো রাখতে জানে। আগামীর অপেক্ষায় কোনো কাজ ফেলে রেখে তারা আক্ষেপ কুড়োয় না। এই সব মুহূর্তে বাঁচা মানুষগুলো শুধু জানে আজকের দিনটা শুধুই নতুন সংযোগ স্থাপনের; “থেকে যাওয়া- চলে যাওয়া” এই সব তাৎক্ষণিক শব্দ গুলো তাদেরকে খুব একটা প্রভাবিত করতে পারে না। এদের চোখের পাতার বৃষ্টির দল- দল বেঁধে কাজলের কালির আড়ালে লুকোচুরি খেলে ।

আবার সেই unstable মানুষ গুলোই সমুদ্রের কুড়ানো ঝিনুক পার্স এর এককোণে জমিয়ে রাখে, চকলেট এর খোলস হোক বা বইয়ের ভাঁজের পাখির পালক সবটা যত্ন করে তুলে রাখে। পুরনো হাতঘড়িতে এরা পুরনো দিনগুলোর গন্ধ খোঁজে। এরা সবটা মনে রাখে- সব্বাইকে মনে রাখে। শুধু ফিরে যেতে চায়না, ফিরে পেতে চায়না, থেকে যেতে চায়না।

– ব্রততী
Photo-artholic.girl

#ফরএভার



-“কিরে আপসেট মনে হচ্ছে?”

-“তুই সব সময় কি করে বুঝিস বলতো? আয় বোস আমি তোর কথাই ভাবছিলাম।”

-“তোকে আমার থেকে বেশি আর কে চেনে?”

-“তুই আমার উপরে খুব রেগে আছিস তাই নারে আদি?”

-” না না, শুধু শুধু রাগবো কেনো, তোর মা বাবার প্রস্তাবে তোর পোসায়নি তাই তুই না করে দিয়েছিস, তাতে কি? বিয়ে করতে না করেছিস বলে কি বন্ধুত্ব টাও ভুলে যাবো? আমি ওতো হ্যাংলা নই বাবা।”

-“তুই তো জানিস আদি আমি আমার লক্ষ্যের থেকে মাত্র কয়েক পা দূরে। আর এসব বিয়ে দেওয়ার প্ল্যান, মা-বাবা সব ইচ্ছে করে করছে, যাতে আমি না যাই।”

-“হ্যাঁ, আমি সব জানি, আর এটা যদি তোর আপসেট হওয়ার কারণ হয় তবে বলবো, চাপ নিস না; তুই যা গিয়ে তোর ব্যাগ প্যাক কর, এখানে আমি সব টা সামলে নেবো।”

(আদি কে জড়িয়ে ধরলো রিয়া)

-“তুই এত্ত ভালো কেনো বলতো?”

-“হ্যাঁ আমি তো খুব ভালো তাই জন্যই তো মা বাবা আমার ছেড়ে চলে গেলো, স্বার্থকও ছেড়ে চলে গেলো, এখন তুইও…”

-“বিশ্বাস কর আদি আমি তোকে ভীষন ভালোবাসি, সেই স্কুল টাইম থেকে, সেই সেদিন থেকে যেদিন তোর মামা বিদেশ যাওয়ার আগে তোকে আমাদের বাড়িতে দিয়ে গেলো, বিশ্বাস কর তুই পৃথিবীতে একমাত্র যে আমাকে আমি হওয়ার অনুভূতিটা দেয়, তুই একমাত্র যাকে আমি কক্ষনো হিংসে করিনি, এমনকি নিজের মা-বাবা -থাম্মির আদরটাও ভাগ করে নিয়েছি। কিন্তু এই মুহূর্তে বিয়ে? তুই তো সব টা জানিস বল! তোর চোখের সামনেই তো সবটা শুরু।”

-“জানি, তুই এখনও স্বার্থকের থেকে মুভ অন করতে পারিসনি, ওর ইনকমপ্লিট প্রজেক্টটা কমপ্লিট করতেই তো আমাকে একা করে দিয়ে চলে যাচ্ছিস।”

-“জানিস সেদিন যখন স্বার্থক নিউজ কভার করার সময় ল্যান্ডমাইনটা ব্লাস্ট করলো ওই আওয়াজটা আমি স্টুডিও তে কন্ট্রোল রুম থেকে শুনতে পেয়েছিলাম; ও পারেনি কিন্তু আমি পারবো, রিপোর্ট টা আমি কমপ্লিট করবো, নিজের জীবন দিয়ে হলেও করবো, কিন্তু ওকে আমি হেরে যেতে দিতে পারবোনা।”

(রিয়ার হাতটা শক্ত করে ধরলো আদি…)

-” আমি জানি তুই পারবি, পারলে তুইই পারবি।”

-“তুই আমার সঙ্গে থাকবি তো আদি?”

-“অলওয়েস”…

-bratati
-collected

পার্থক্যটা বুঝতে শেখো

কেউ তোমাকে আগলে রাখতে চায়, তো কেউ চায় তোমাকে বেঁধে রাখতে ।

যে তোমাকে ভালোবাসবে সে তোমাকে আগলে রাখবে; আর অপরজন শুধুই অধিকার বোধ ফলাবে, নিয়ন্ত্রণ করতে চাইবে তোমাকে।

যে আগলে রাখতে চাইবে সে তোমার দেরী করে বাড়ি ফেরার পর হয়তো জড়িয়ে ধরে জিজ্ঞেস করবে “ফিরতে অসুবিধা হয়েনি তো?”
আর যে তোমার উপর দখল নেওয়ার চেষ্টা করবে সে প্রশ্ন বানে হয়তো জর্জরিত করে তুলবে তোমাকে।

যে আগলে রাখতে চাইবে সে তোমার জন্য পোশাক পছন্দ করার সময় দেখবে সেটাতে তুমি ঠিক কতটা সাচ্ছন্দ্যবোধ করছো; আর অপরজনের কাছে কোন পোশাকে তোমার শরীর ঠিক কতটা দেখা যাচ্ছে বা যাচ্ছে না সেটা তোমার স্বাচ্ছন্দ্যের থেকে বেশি প্রাধান্য পাবে।

যে আগলে রাখতে চাইবে সে তোমার ইচ্ছেগুলোকে- স্বপ্নগুলোকে ঠিক তোমার মতন করেই গুছিয়ে রাখার চেষ্টা করবে; আর যে অধিকার ফলাবে সে তোমার ইচ্ছেগুলোকে নিজের রঙে ঠিক এতোটাই রাঙাবে যে সেটা তোমার কাছে নেহাৎ বর্ণহীন হয়ে উঠবে।

জীবনে কম বেশি দুধরনের মানুষই পথ হাঁটবে তোমার সাথে, কিন্তু কার হাতটা ধরবে- তোমার হাতটা কাকে ধরতে দেবে, কার সাথে জীবনটা বাঁচবে- তোমার সাথে কাকে জীবনটা বাঁচতে দেবে, সেটা সময় মতো তোমাকেই বেছে নিতে হবে।।।

  • ব্রততী
    ফটো কালেক্টেড ফ্রম ফেসবুক

#JusticeForManisha



এখন তো এতো গলা তুলে লাভ নেই দাদা, আগে কেনো ভাবেননি? কেনো নিজের বাড়ির মেয়েদের সাবধান করেননি?
দোষটা তো আপনার, না না ভুল বললাম দোষটা তো সব বাবা মাদের যারা নিজেদের ঘরের মেয়েদের মেয়ে-মানুষ বানিয়ে না রেখে মানুষ হতে শেখাচ্ছে। সব দোষ তো মেয়েদের যারা “সমানাধিকার” শব্দ টাকে বইয়ের পাতা থেকে আলাদা করে বাস্তবিক জীবনেও কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে।
আহাঃ ওদের কি দোষ; ওরা নেহাৎ অবলা জীব, ওরা কি আর ওতো কিছু বোঝে? ওরা শুধু ভোগেই সুখ খোঁজে। ওদের একদম দোষারোপ করবেন না, ওরা তো আর আপনার ঘরে ঢুকে মেয়েদের তুলে আনেনি; মেয়েরা ঘরের বাইরে গেছিলো কেন?
না না ভুলিনি, মনে আছে ওই কোলের শিশুটা ঘরেই ছিলো, এমনকি সেই মহিলাটিরও তিন কাল গিয়ে এককাল এ ঠেকেছিল; কিন্তু তাতেও বা ওদের অপরাধ কি? ওদের যৌণ চাহিদার উপর কি ওদের দখল ছিলো নাকি??
আসলে দোষ টা ওদের একদম না, দোষটা আমাদের মানে সমাজের;ওদের কাজ কর্ম শেষ হওয়ার পর তো বাকি দায়িত্ব পালনের জন্য তো আমরা আছিই, তাই না!
ওরা তো যা দেখবে তাই শিখবে। ওরা তো কখনো দেখেনি কোনো ধর্ষককে সময় মতো যোগ্য শাস্তি পেতে, ওরা তো কখনো দেখেনি কোনো ধর্ষককে জনসমক্ষে দাঁড় করিয়ে তাকে পিটিয়ে মারা হচ্ছে, বা গুলি করা হচ্ছে; তাই ওদের কোনো ভয় নেই। ভুল বশত ধরা পরে গেলেও সরকারের পয়শায় চব্যচস্য গেলা ছাড়া তো ওদের আর তেমন কিছুই আসবে যাবে না; না কিছু যাবে আসবে আঙ্গুল তোলা সমাজের; এমনকি আজকের হাজারো কণ্ঠস্বর গুলোও মিলিয়ে যাবে সময়ের অন্তরালে, নিভে যাবে মোমবাতির আলো গুলোও। শুধু সব দোষ টা হবে তাদের, যারা ঘরের বাইরে বেরিয়েছিল।।।🙂🙃

– ব্রততী

নিজের অজান্তেই কিছু মানুষ আমাদের মনের খুব কাছাকাছি চলে আসে, আবেগের সাথে জড়িয়ে যায়। অন্যান্যরা যে যাই আলোচনা করুক না কেন আমরা সব কিছুতেই তাদের প্রসঙ্গ টেনে নিয়ে আসি, যেন সে ছাড়া আর কোনো ব্যক্তি অবশিষ্টই নেই আমাদের জীবনে। তাদের অজান্তেই তারা ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে যায় আমাদের ভাবনায়, অভ্যাসে, অবকাশে, অনুভূতিতে; আমাদেরকেও তাদের পাগলামো গুলোর অংশ বানিয়ে নেয়। ঠিক এখন এই লেখাটা পড়তে পড়তে তুমি যার কথা ভাবছো, হ্যাঁ আমি ঠিক তাকেই উল্লেখ করতে চাইছি। সে নিশ্চই তোমার মনের সব বন্ধ কপাট গুলোতে কড়া নেড়ে পালিয়েছে, ধরা দেয়নি আর!মনের সেই বন্ধ কুঠুরি গুলোতে যখনই ভেবেছো যে সে এসে একটু আলোর দিশা দেবে,সে নিশ্চই তখন পালিয়েছে!
আসলে আমাদের সবার জীবনে এমন কিছু মানুষ থাকে যারা দমকা হাওয়ার মতো এসে, ঝড়ের বেগে সবটা ওলোট-পালোট করে দিয়ে চলে যায়; ঠিক যেমন ওই আদিত্যর জীবনে গীত – এর মত; তাদের ধরে রাখার চেষ্টাও করতে নেই, না বাস্তব জীবনে তাদের ফিরে পাওয়ার আশা রাখতে হয়। তাদের শুধু তাদের মতন থাকতে দিতে হয়, তাদের সাথে কাটানো দিনগুলো জমিয়ে বাঁচতে হয়, উড়তে দিতে হয় তাদের, নিজের মতন বাঁচতে দেখে মনে মনে আপ্লুত হতে হয়।

🔹🔹🔹🔹🔹🔹🔹🔹🔹🔹🔹🔹🔹🔹🔹

– ব্রততী (কুম্ভকর্ণী- kumbhakarni)
ফটো কালেক্টেড

Countdown

🔹🔹🔹🔹🔹🔹🔹🔹🔹🔹🔹🔹🔹🔹🔹🔹🔹

– “ভাই দুটো বাজে এবার একটু বাড়ি যাই, একটু ঘুমাবো, কাল সকালে আবার প্ল্যান আছে।”
– “নাটক করিসনা তিনো, কাল যেনো আমাদের কোনো প্ল্যান নেই, হুঃ!”
– “হ্যাঁ তিনো, নব তো ঠিকই বলেছে আজ রাতটা কাটিয়ে যা আমাদের সাথে, কাল সারাদিন তো তোর ম্যাডাম বুক করে নিয়েছেন, আর পরশু সকালেই তো তোর ফ্লাইট; এরম ভাবে আড্ডা হতে হতে আরও এক বছরের অপেক্ষা।”

গতবার ভাগ্যিস তিনো অষ্টমীর রাতে আরো ঘণ্টা দুয়েক বেশিক্ষণ আড্ডায় মেতেছিলো পাড়ার বন্ধুদের সাথে, কারণ এবছর তো এই দূরদেশে সে একদম একা; করোনার কারণে এবার আর কলকাতার পুজো দেখা হলো না তার।

🔹🔹🔹🔹🔹🔹🔹🔹🔹🔹🔹🔹🔹🔹🔹🔹🔹🔹

– “সেকি এবার কি একটাও বায়না পাওনি”?
– “প্রতিবার তো রাজবাড়ীতে একশো ঢাকীর বায়না থাকে, এবার চাহিদা আধা হয়ে গেছে, আর আমার নম্বর তো বাহাত্তর, তাই!!! আর বয়স টাও তো কম হলো না। কচি-কাচা রাই করুক এবার।”
– “ছেলে মেয়ে গুলো বড়ো আশা করেছিলো একখান জামার জন্য।”
– “কালীপুজোর মধ্যে নিশ্চই মা মুখ তুলে চাইবেন, তখন দুটো জামা দেবো, বলে দিও ওদের।”

কালীপুজো তেও কি ওরা নতুন জামা পাবে? কে জানে!!!

🔹🔹🔹🔹🔹🔹🔹🔹🔹🔹🔹🔹🔹🔹🔹🔹🔹🔹

-“কি হলো দাদা সকাল থেকে দেখছি ক্লাবের চারিধারে ঘুর ঘুর করছেন, বলি কেসটা কি?”
-“বলছি ভাই এবার চাঁদা টা তো নিতে গেলে না!”
-“কি! প্রতিবার তো ঝগড়া করেন চাঁদা নিয়ে এবার হঠাৎ কি হলো?”
-“প্রতি বছর তো তোমরা চারদিন ধরে খাওয়াও, এবার শুনলাম একদিন ও খাওয়াবে না তাই!!!”
-“কেন খবর দেখেননি, এবার সব বন্ধ।”
-“তা জানি কিন্তু ওই চারদিন আমাদের পাড়ার সব বাড়ির মহিলারা রান্না ঘর থেকে একটু ছুটি পায়, আর হোটেলের খাওয়ার ওরা খাবে না, তাই যদি তোমরা ব্যবস্থা করে প্রসাদ বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দাও!!! আমাদের পাড়ার সবাই চাঁদা দেবে, হাতে হাতে কাজও করবে শুধু যদি তোমরা হ্যাঁ বলো।”

ঘরের দূর্গাদের চারদিন ছুটি মঞ্জুর হলো।।।

🔹🔹🔹🔹🔹🔹🔹🔹🔹🔹🔹🔹🔹🔹🔹

– ব্রততী

ঠিক বাবার মতন

সব মেয়েদের একটা secret desire থাকে, তাদের পার্টনার যাতে তাদের বাবার মতো হয়; তা সে “dad’s little princess” হোক বা “papa ki Sherni”, মেয়েরা তার সেই ভালোবাসার মানুষটির থেকে ঠিক ততটাই যত্ন, কদর আর মনোযোগ পেতে চায়, যতটা সে তার বাবার থেকে পায়।

কেউ সমস্ত দিনের ক্লান্তি ভোলার জন্য একটা কোল খোঁজে, ঠিক যেমনটা স্কুলের সব বদমাইশি গুলো বাবার কোলে শুয়ে বলে ফেলা যেত।

কেউ আবার নিজের সব জেদ, রাগ, অভিমান, আবদার আর অধিকার বোধ ফলানোর মতো স্নিগ্ধতা খোঁজে।

কারোর আবার ছোট্ট ছোট্ট দুষ্টুমি গুলোকে প্রশ্রয় দেওয়ার মানুষ চাই, যেই আনন্দটা বাবাকে ঘোড়া বানিয়ে পাওয়া যেত বা মাকে লুকিয়ে ফ্রিজ থেকে আইস ক্রিম চুরি করে খাওয়ায় ছিলো।

খুঁটিনাটি নিয়ে ঝগড়া করার- খুনসুটি করার একটা মানুষেরও বড্ডো দরকার; ঠিক যেই ঝগড়াটা দেরী করে বাড়ি ফেরার পর বাবার কাছে বকা খেয়ে পরের তিন-চার দিন গাল ফুলিয়ে বসে থাকায় লুকিয়ে ছিলো, সেটা।

আমাদেরকে নিয়ে পজেসিভ হওয়ার- চিন্তা করার একটা মানুষেরও খুব দরকার; এক্ষেত্রে মেয়েরা দুজন “প্যানিক মিনিস্টার” কেই চায় তাদের জীবনে; কখনো সখনো ভ্রু কুঁচকালেও মনে মনে তারা সেটা বেশ উপভোগ করে।

সবাই হয়তো সবটা পায় না কিন্তু ব্যাক ক্যালকুলেশনে অঙ্ক মেলাতে যে মেয়েদের জুড়ি মেলা ভার; এই জীবনের এই বিশেষ দুটো মানুষকে, তাদের চিন্তা ধারাকে, আমাদের প্রতি তাদের উদ্বেগকে আমরা ঠিক কোনো না কোনো বিন্দুতে মিলিয়ে দিই। ভালো থাকি, আর তাদেরকে ভালো রাখারও চেষ্টা করি।

– ব্রততী

অগোছালো জীবন

একটা অগোছালো জীবন আমার খুব পছন্দের, যেখানে নিজেকে গুছিয়ে রাখার ভান করতে হবে না।

আমার সাথে আমার ভাবনা গুলোর একটা পূর্ণ সংযোগ থাকবে, কোনো তথাকথিত বড়ো হয়ে যাওয়ার তকমা থাকবে না গায়ে।

ফোনের প্লেলিস্ট এ চলতে থাকা গানের সুরে ভুলভাল লিরিক্স দিয়েই গলা মিলিয়ে যাবো; কথা শুধরে দেওয়ার কোনো বিশেষজ্ঞের দরকার নেই আমার!

সারা দিন বইয়ের পাহাড়ের চূড়ায় মুখ গুঁজে পরে থাকবো; ডার্ক সার্কেল এর খবর নেবেনা কেউ।

পোষ্য গুলোও লেজ গুটিয়ে ঘরের এদিক ওদিক নেতিয়ে পড়ে থাকবে ঠিক আমারই মতন।

ঘরে টিমটিমে আলো জ্বেলে অগোছালো জীবন টা রোজ নতুন করে ধরা দেবে আমার জড়িয়ে থাকা পাশ বালিশে।।।

ইনস্টাগ্রাম (artholic.girl)

#ভালোবাসার_ভালো_থাকা



ক্লায়েন্ট মিটিং টা শেষ করে সবে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললো রুচিতা। হঠাৎ এমন সময় ওর বেস্টফ্রেন্ড তুলির ফোন এলো, আজ ওদের একসাথে ডিনার এ যাওয়ার কথা রুচিতার বার্থডে সেলিব্রেশন এর জন্য; এই শহরে তুলি ছাড়া রুচিতার আর কেউ নেই, তাই প্রতিবছর এই দিনটা ওরা একসাথেই পালন করে।

-“তুমি চাও কি আমার থেকে?”
-“ডিভোর্স, আর সেটা তুমি অ্যাপ্লাই করবে”
– “আলাদাই তো আছো এতো গুলো বছর তবে আবার ডিভোর্স কেন? প্রায় এক বছর হয়ে গেলো, মেয়ে টাকে আসতে পর্যন্ত দাও না আমার কাছে।”
-“বললাম তো, আমাকে ডিভোর্স টা দিয়ে দাও, আর সাউথ কলকাতায় আমাদের দুজনের নামে যে ফ্ল্যাটটা আছে সেটাও লিখে দাও আমার নামে, আর নিয়ে নাও রুমিকে বরাবরের মতো।”
-“আর ইউ কিডিং? কক্ষনো না। আমি তোমাকে এমন পরিস্থিতিতে ফেলবো তুমি বাধ্য হবে মিউচ্যুয়াল ডিভোর্স দিতে, আর রুমিকেও ফিরিয়ে দেবে তুমি। তুমি কি ভাবো তোমার নোংরামির কোনো খবর নেই আমার কাছে! মিনিমাম সম্পর্কের দাম টুকু দিতে পারো না, ছিঃ!”
-“কি জানো কি তুমি, কি মিথ্যে অ্যালিগেশন আনবে তুমি আমার নামে! তুমি নিজে কি হ্যাঁ, সম্পর্কের দাম! সিরিয়াসলি! এখন এসব আমাকে তোমার থেকে শিখতে হবে, যে কিনা নিজের বেস্টফ্রেন্ড আর গার্লফ্রেন্ড দুজনকেই ঠকিয়েছিল! হুঁঃ!!!

এসব শুনে মাথা ঠান্ডা রাখতে না পেরে সুজাতার গায়ে হাত তুলতে যায় নিলয়; টেবিলের উপর রাখা জুস টা নিলয়ের শার্টে ছুঁড়ে দিয়ে রেগে-মেগে হোটেল থেকে বেরিয়ে চলে যায় সুজাতা।
বিল পেমেন্ট করে পার্কিং এর দিকে যাওয়ার আগে নিলয় ওয়াশরুমে যায় জামাটা পরিস্কার করতে। কাঁচের দরজাটা খুলে বেরোতে যাবে ঠিক এমন সময় দরজায় একটা ছায়া দেখে থমকে দাঁড়িয়ে পড়লো। সেই চেনা মুখ, সেই খোলা চুল, সেই হালকা হাঁসি; প্রায় ন’বছর পর দেখলো তাকে।
লজ্জার মাথা খেয়ে নিজেই এগিয়ে গেলো কর্নারের টেবিলটার দিকে।

-“কলকাতা কবে এলে? তুমি নয়ডা গেছিলে শুনেছিলাম।”

কেকের উপর রাখা মোমবাতিটা নেভানোর ঠিক আগের মুহূর্তে সেই চিরপরিচিত গলার স্বর শুনে উপরের দিকে তাকিয়ে চুপ করে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো রুচিতা। তুলিও মাথা ঘুরিয়ে দেখলো নিলয়কে। তেলে বেগুনে যেনো জ্বলে উঠলো তুলি, রীতিমতো অপমান করে তাড়িয়ে দিতে চাইলো ওকে।

-“তুলি, ক্যান উই গো প্লীজ? ট্রিট টা তোকে আমি অন্য কোনোদিন দেবো।”
-“হ্যাঁ চল আজ আমার বাড়িতেই থাকবি তুই।”
-“না, আমাকে আমার অ্যাপার্টমেন্ট এই ড্রপ করে দে প্লীজ।”

পার্কিং থেকে গাড়ি নিয়ে ওরা দুজন বেরিয়ে গেলো
রুচিতার বাড়ির উদ্দ্যেশে। পিছনেই একটা গাড়ি ওদের ফলো করছিল সেটা খেয়াল করেনি ওরা। গাড়ি থেকে নামার সময়েই অ্যাপার্টমেন্ট টা দেখে নিয়েছিল নিলয়।

ঘরে গিয়ে একটু ফ্রেশ হয়েই, এক কাপ গরম কফি হাতে নিয়ে, সেই সব দিন গুলোর কথা ভাবতে লাগলো রুচিতা।
কলেজ আলাদা হলেও ওদের সেই কমন আড্ডাজোন; ও, নিলয়, তুলি, সুজাতা আর ঋষি, কি ভালোই না ছিলো দিনগুলো, ঠিক যেনো স্বপ্নের মতো। হঠাৎ করে কি থেকে যে কি হয়ে গেলো!!
ঠিক এমন সময় বেল টা বেজে উঠলো। তাড়াহুড়ো করে চোখটা মুছেই রুচিতা দরজা খুললো, সঙ্গে সঙ্গেই বন্ধ করে দিতে চাইলো, কিন্তু মেয়েটা যে বড্ডো ইমোশনাল। ওর শারীরিক সব শক্তি মানসিক শক্তির কাছে হার মেনে গেলো। বাধ্য হলো নিলয় কে ঘরের ভিতর আসতে দিতে।
-“বাহ্! কি সুন্দর সাজিয়েছ ঘরটা।”
-“কি চাই তোমার এখানে, আমার বাড়ি চিনলে কি করে, এক্ষুনি চলে যাও প্লিজ। আমি কিন্তু সিকিউরিটি কে ডাকতে বাধ্য হবো। প্লিজ লীভ।”
-” এত্ত কিছু একসাথে, রিল্যাক্স! এতো দিন পর দেখা হলো এককাপ কফি ও অফার করবে না? প্লিজ! দেখো তোমার কফি টাও ঠান্ডা হয়ে গেছে। প্লিজ প্লিজ! ফর ওল্ড ডে সেক্!”

স্বভাব বসত গোলে গেলো রুচিতা।

-“কফি!”
-“থ্যাঙ্ক! আচ্ছা রুচি তুমি আমাকে এখনও খুব ঘেন্না করো তাই না? যদিও আমি সেটারই যোগ্য।”
-“তোমার প্রবলেম টা কি জানতো তুমি কোনোদিন আমাকে ভালোই বাসোনি, সবটাই ছিলো তোমার প্রয়োজন; আমি সেদিনও তোমাকে ঘৃণা করিনি যেদিন তুমি আমাকে আর তোমার বেস্টফ্রেন্ড কে একসাথে ঠকিয়েছিলে, সুজাতা কে চুজ করেছিলে। তুমি আমার ঘৃণার ও যোগ্য নও।”
-“সেদিনের সেই ভুলের শাস্তি আমি আজও পাচ্ছি বিশ্বাস করো; সুজাতার কাছে পুরুষ মানেই নেশার বস্তু মাত্র, তখন ছিলো ঋষি, তারপর আমি আর এখন না জানি আরও কতজন। জানো রুমিকে পর্যন্ত আসতে দেয় না আমার কাছে! রুমি, রুমি আমার মেয়ে।”
-” বাহ্! বিয়ে করেছ, ঘোর সংসারী হয়েছ, মেয়ের বাবা হয়েছ, বেশ সুখেই তো আছো; তবে আমার জীবনে আবার কেনো আসছ এরম ভাবে?”
-“বিদ্রুপ করছো! তবে হ্যাঁ সুখ যদি বলো তবে রুমিই আমার একমাত্র সুখ, এই দেখো আমার ফোনের ওয়ালপেপারে ওর ছবি।”
-“বেশ বেশ! তা মেয়ের কোন ক্লাস হলো?”
-“ক্লাস ওয়ান; লাস্ট আগস্ট এ পাঁচ বছর হলো”
-” কি? কিন্তু তোমরা যখন বিয়ে করো তখন তো সুজাতা অলরেডী প্রেগন্যান্ট, সেই মতো তো ক্লাস ফোর্ হওয়া উচিত!”
-“ঠিক ধরেছ, বিয়ের কয়েক মাসের মধ্যের সুজাতার মিসক্যারিয়েজ হয়, তারপর ডক্টর বলে ও আর কখনো কনসিভ করতে পারবে না; ওকে শান্ত করতেই তারপর রুমি কে এডপ্ট করা। কিন্তু জানো কিছু মাস পর থেকেই সুজাতার মধ্যে একটা চেঞ্জ নোটিশ করি, অনেক অশ্লীলতা চলে আসে ওর মধ্যে। ইনফ্যাক্ট ড্রাগস নিতো মাঝে, পুলিশ অ্যারেস্টও করেছে বহুবার, আমি ছাড়িয়েছে। অনেক সহ্য করেছি, কিন্তু আর পারছি না বিশ্বাস করো।”
-“এতো কিছু আমায় বলার কি মানে, আমি কি করতে পারি? তোমার কফি টা শেষ এবার বাড়ি যাও।”
-“জানি আই সাউন্ড লাইক এ ক্রীপ, স্টিল; তুমি আমার কেস টা লড়বে প্লিজ রুচি। আই জাস্ট ওয়ান্ট মাই রুমি ব্যাক। প্লিজ। আমাদের বন্ধুত্বের দাবিতে।”
– “এখন বাড়ি যাও পরে ভেবে জানাবো।”
-“যাচ্ছি, বাই দ্যা ওয়ে, হ্যাপি বার্থডে রুচি, খুব ভালো থেকো।”

দরজা টা বন্ধ করে রুচি হাউ হাউ করে কেঁদে উঠলো, কারণ টা হয়তো সে নিজেও জানে না; এতদিন পর ভালোবাসার মানুষটাকে দেখলো বলে, নাকি আজ ন’বছর পর একটা জন্মদিন একসাথে কাটালো বলে, নাকি অন্য কোনো কারণ; জানে না রুচি, একটা অদ্ভুত অনুভূতি ধরা দিলো মনের মধ্যে, সবটা যেনো ভেঙ্গে টুকরো টুকরো হয়ে গেলো।

রুচি কেসটা লড়ল নিলয়ের হয়ে; সুজাতার প্রেজেন্ট ফিনান্সিয়াল কন্ডিশন, সোশ্যাল আর মেন্টাল কন্ডিশন, পাস্ট ক্রিমিনাল রেকর্ড সব দেখে আদালতের বিচারে রুমির কাস্টাডি পেলো নিলয় এমনকি মিউচ্যুয়াল ডিভোর্স দিতেও বাধ্য হলো সুজাতা। সেদিন রুচি নিলয়ের থেকে শুধু একটাই প্রমিজ নিয়েছিল , যে ও আর কোনোদিনও কোনোভাবে রুচিকে যোগাযোগ করার চেষ্টাও করবে না আর রুমিকে অন্তত সম্পর্ক গুলো দাম দিতে শেখাবে, আরেকটা সুজাতা বা আরেকটা নিলয় তৈরি হতে দেবে না।

আসলে কি বলুনতো ভালোবেসে ঠকে গেলেও “ভালোবাসার ভালো থাকা” টা সবার কাছেই মূল্যবান।।।

– ব্রততী
– ফটো কালেক্টেড

সেদিনের পুজো

সারাটা বছর আমার বয়সি কিছু ছেলেমেয়ে ঠিক এই সময়টার অপেক্ষায় থাকত, যাতায়াতের ভাড়া বাঁচিয়ে পুজাবার্ষিকা কেনার অপেক্ষায়।
আবার আরেকদল নিজেদের একটু বড় ভেবে একরকম জোর করেই যোগ দিত চাঁদা তুলতে যাওয়ার দলে।
কেউ কেউ আবার রোজ সকালে স্কুলে এসেই নতুন জামা-জুতোর ফিরিস্তি জুড়ে দিত।
ফাঁকিবাজ নামে খ্যাত একদল প্রায় সেকেন্ড পিরিওড থেকেই রিহার্সাল এ চলে যেত, পুজোর ছুটি পরার দিন প্রতিবছরই স্কুলে প্রোগ্রাম হতো, শেষ অব্দি অনুষ্ঠান তালিকায় নাম না থাকলেও, রিহার্সালটা ছিল ম্যান্ডেটরি। ফোন এর রেডিও তে না, ঠাকুরদার আধ ভাঙ্গা রেডিওতেই সপরিবারে মহিষাসুরমর্দিনী শোনাই ছিলো তখনকার প্রথা। পুজোয় হাত খরচের জন্য অনেক কান্না-কাটির পর সর্বমোট ৫ টাকা পাওয়া যেত, যার মধ্যে আড়াই টাকা রাখাই থাকত ফ্রুটির প্যাকেটের জন্যে, আর আইসক্রিম-আলুকাবলির জন্য বাকি টাকাটা ঠাকুমা-দাদুর থেকেই ম্যানেজ করতে হতো।
তখন গলির মোড়ে মোড়ে এতো থিম পুজো হতো না, DJ এর বদলে কিশোর-হেমন্ত-শানুর গান চলতো।
সেই পুজো গুলোতে আন্তরিকতা ভরপুর ছিলো, কারণ সমস্যাগুলো ক্যাপ বন্দুকের আওয়াজ এর মতই ক্ষণস্থায়ী ছিলো।।।